খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ

ঢাকা: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সমাবেশে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতি ও সমাজও ভালো থাকবে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের আয় ও জীবনমান উন্নত না হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা গ্রহণে কাজ করছে।

কর্মসংস্থান ও শিল্পখাত পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শিল্পখাত সচল হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শিল্পখাত পুনরুজ্জীবিত করা গেলে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ।

শ্রমিক কল্যাণে নীতিগত গুরুত্ব

সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

শ্রম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হলে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কৃষি খাতে সহায়তা

শ্রমিকদের পাশাপাশি কৃষকদের উন্নয়নেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি ও শিল্প—দুই খাতেই সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমিক ও কৃষক—এই দুই শ্রেণির মানুষের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

উপসংহার

মে দিবসের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শ্রমিক ও কৃষকের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। এখন এসব ঘোষণার বাস্তবায়ন কতটা কার্যকরভাবে হয়, সেটিই দেশের উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News