জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত আগামী ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহে আয়োজিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ও জনসেবামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবদুল মালেক

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন। ঈদের নামাজকে ঘিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মুসল্লিদের জন্য আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে। নারী ও পুরুষ মুসল্লিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করা যায়।

একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের মোট আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২১টি কাতারে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারী মুসল্লির পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিআইপি অতিথিদের জন্যও বিশেষ কাতার নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা ফটকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়। ভিআইপি, সাধারণ পুরুষ ও নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বহির্গমন পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও জনসেবায় বিশেষ ব্যবস্থা

ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় পানি নিরোধক সামিয়ানা ও পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পর্যাপ্ত ফ্যান, আলোকসজ্জা, নিরাপদ খাবার পানি এবং কার্পেট সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

এছাড়া অজুখানায় একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লির অজু করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সুবিধা থাকবে।

ঈদকে ঘিরে রাজধানীতে উৎসবমুখর পরিবেশ

জাতীয় ঈদগাহকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ইতোমধ্যে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ ফটক ও আলোকসজ্জা ঈদগাহ এলাকায় বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। প্রতি বছর জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে লাখো মানুষের ঈদ উদযাপন আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

Source: Based on reporting from BSS and Dhaka South City Corporation officials

Next News Previous News