মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে কোরবানির আগে বড় শয়তানকে পাথর মারছেন হাজিরা
মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে পাথর মারছেন হাজিরা
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে হাজিরা মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে “জামারাত” প্রাঙ্গণে বড় শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপ করছেন। এই রীতি ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক।
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজি অংশ নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাপনা, বহুতল রুট এবং সময় ভাগ করে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কেন এই পাথর নিক্ষেপ?
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি নবী ইব্রাহিম (আ.)-এর শয়তানকে প্রতিহত করার ঘটনার স্মরণে পালন করা হয়। হাজিরা প্রতীকীভাবে শয়তানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও পাপ বর্জনের প্রতিজ্ঞা প্রকাশ করেন।
কীভাবে সম্পন্ন হয় এই রীতি?
হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন শেষে সকালে মিনায় ফিরে তিনটি জামারাতে (ছোট, মধ্য ও বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করেন। ঈদের দিন সাধারণত বড় জামারাতে পাথর মারা শুরু হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ভিড় ও দুর্ঘটনা এড়াতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ করে জামারাত ব্রিজ এলাকায় মানুষের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আলাদা রুট ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্বের হাজিদের অংশগ্রহণ
এ বছরও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজে অংশ নিয়েছেন।
তারা একই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে এই প্রতীকী শয়তান নিক্ষেপে অংশ নিচ্ছেন।
হজের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়।
এই পুরো প্রক্রিয়া মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশি হাজিদের অংশগ্রহণ
বাংলাদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক হাজি এ বছর হজ পালন করছেন।
বাংলাদেশ হজ মিশনের তত্ত্বাবধানে তাদের নিরাপদ যাতায়াত, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উপসংহার
মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক।
বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা একই সময়ে এই আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক ঐক্যের বার্তা বহন করেন।
