দিনাজপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির মাইকিং

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন ঠেকাতে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ৪২ বিজিবি।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বর্ডার অবজারভেশন পোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতাও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত মাইকিং, সচেতনতামূলক সভা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।

ঈদকে সামনে রেখে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় গবাদিপশু পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে গরু আনার চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থানীয় পশুর বাজার স্থিতিশীল রাখতে সীমান্তে অবৈধ গরু প্রবেশ বন্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় লাউডস্পিকারে প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে সন্দেহজনক চলাচল সম্পর্কে তথ্য দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো অপরাধ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল নয়, সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সচেতন অংশগ্রহণও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলে।

তারা আরও বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় মানুষের চলাচল ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। ফলে এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়ে।

বর্তমানে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

Source: Based on reporting from local correspondents and Border Guard Bangladesh (BGB) officials

Next News Previous News