ধামরাইয়ে গরু বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ঢাকার ধামরাইয়ে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় শহীদুল কায়সার নামে এক গরু বিক্রেতার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, হাটের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে হাট কর্তৃপক্ষের লোকজন ও কয়েকজন হামলাকারী তাকে বেধড়ক মারধর করে। একই সঙ্গে গরু বিক্রির কয়েক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্বজনরা।
বুধবার ভোররাতে ধামরাই-আশুলিয়া সীমান্তবর্তী শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম এলাকায় অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদুল কায়সার (৫০) স্থানীয়ভাবে একজন ওষুধ ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
হাটে জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘর্ষ
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদুল কায়সার তার ভাই ও ভাগনেকে সঙ্গে নিয়ে ১৮টি গরু এবং দুটি ছাগল বিক্রির জন্য হাটে যান। এর মধ্যে বেশিরভাগ পশু বিক্রি হয়ে গেলেও কয়েকটি গরু তখনও অবিক্রিত ছিল।
পরিবারের দাবি, সেই সময় অন্য এক ব্যক্তি একই স্থানে গরু বাঁধতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ও আশপাশের লোকজন মারধরে জড়িয়ে পড়ে।
নিহতের ভাগনে ফিরোজ কবির অভিযোগ করেন, প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শহীদুল কায়সার এবং তার ভাইও হামলার শিকার হন। তিনি দাবি করেন, হামলার সময় গরু ও ছাগল বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
পরিবারের সদস্যরা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদুল কায়সারকে দ্রুত ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই মাসুদ রানা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সংঘর্ষে জড়িতরা তা উপেক্ষা করে মারধর চালিয়ে যায়। পরে তিনি নিজের কাছে থাকা নগদ অর্থও খুঁজে পাননি বলে দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে এমন সহিংস ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।
পুলিশের তদন্ত শুরু
ঘটনার বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল জানান, কন্ট্রোল রুম থেকে খবর পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও তারা পান।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল আশুলিয়া থানার আওতাধীন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত হাট ইজারাদার বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঈদের পশুর হাটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসে, যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক সময় সংঘর্ষ, ছিনতাই ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নগদ অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক অস্থায়ী হাটগুলোতে ব্যবস্থাপনা দুর্বল থাকলে ছোট বিরোধও দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। তাই প্রশাসনিক তদারকি, সিসিটিভি নজরদারি এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা জরুরি হয়ে উঠেছে।
Source: Based on reporting from local correspondents, eyewitness accounts and police officials
