সামনে খারাপ সময়, নিতে হবে কঠিন সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ অর্থনীতি, খেলাপি ঋণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে এনে আগামী দুই বছর দেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা জনগণের কাছে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
‘কঠিন সময়’ মোকাবিলায় ঐক্যের আহ্বান
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি নিম্নস্তরের ভারসাম্যে (লো-লেভেল ইকুইলিব্রিয়াম) অবস্থান করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সহজ হবে না এবং এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, “এটি শুধুমাত্র সরকারের নয়, পুরো দেশের বিষয়। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ
দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে খেলাপি ঋণের উচ্চহার তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি, যা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি তুলনা করে বলেন, ২০০৫ সালে এই হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণের এমন উচ্চমাত্রা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট বাড়াতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ নিয়ে ব্যাখ্যা
ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো নতুন ধারণা নয়; বরং বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে অনেক সময় ঋণ পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়, যা অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়ক।
তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের উদাহরণ তুলে ধরেন এবং বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যবসা ও বিনিয়োগে চ্যালেঞ্জ
অর্থমন্ত্রী আরও দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে রয়ে গেছে। ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তি, ঋণ বিতরণ এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন বাধার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত না হলে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণ ও অবকাঠামোগত সহায়তার অভাবে পিছিয়ে পড়তে পারেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবও বাংলাদেশের ওপর পড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এই অবস্থায় সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষ করে আগামী জাতীয় বাজেট ও আর্থিক নীতিতে কঠোরতা দেখা যেতে পারে, যা সাধারণ মানুষের ওপর স্বল্পমেয়াদে চাপ তৈরি করতে পারে।
উপসংহার
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সামনে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কঠিন পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ঐক্য, স্বচ্ছ নীতি এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হতে পারে সফলতার মূল চাবিকাঠি।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
