দখলমুক্ত জায়গাকে ‘গণমাধ্যম চত্বর’ ঘোষণা জামায়াত এমপির

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার দীর্ঘদিন দখলে থাকা একটি ফাঁকা জায়গা উদ্ধার করে সেটিকে ‘গণমাধ্যম চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। সোমবার বাদ আছর স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পেশাগত যোগাযোগ, সমন্বয় এবং সংবাদকর্মীদের জন্য একটি স্থায়ী মিলনকেন্দ্র গড়ে উঠবে।

দখলমুক্ত জায়গার নতুন ব্যবহার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে ছিল। সম্প্রতি প্রশাসনিক উদ্যোগে সেটি দখলমুক্ত করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম লেবু জায়গাটিকে গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, এই স্থানটি শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থেও উন্মুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে যাতে জায়গাটি আবার দখলের শিকার না হয়, সে বিষয়ে পৌর প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের জন্য উপযোগী পরিবেশ গড়ার আশ্বাস

সংসদ সদস্য আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জায়গাটিকে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজিয়ে সেখানে বসার উপযোগী পরিবেশ, ছাউনিযুক্ত স্থান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য এমন একটি নির্দিষ্ট উন্মুক্ত স্থান ভবিষ্যতে মতবিনিময়, সংবাদ পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি

ঘোষণাকালে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাব ও অন্যান্য স্থানীয় গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পাপুল সরকার, মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান মাসুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রতন, সাবেক সহসভাপতি ফেরদাউছ মিয়া এবং স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সাংবাদিকরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পলাশবাড়ীতে সাংবাদিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মিলনকেন্দ্রের দাবি ছিল। ‘গণমাধ্যম চত্বর’ বাস্তবায়িত হলে তা পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো বা মিলনকেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ স্থানীয় গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয়, সংগঠিত এবং জনসম্পৃক্ত করে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি সংবাদকর্মীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ তৈরির প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, পলাশবাড়ীতে দখলমুক্ত জায়গাকে ‘গণমাধ্যম চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এখন নজর থাকবে ঘোষণাটি কত দ্রুত বাস্তব অবকাঠামোতে রূপ নেয়।

Source: Based on reporting from Amar Desh and local media representatives in Palashbari, Gaibandha

Next News Previous News