ট্রাম্পের ইউটার্ন: হরমুজকে ‘স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত’ করার ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীকে “স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত” করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বেইজিং ইরানে অস্ত্র সরবরাহ না করার আশ্বাস দিয়েছে। 0

ট্রাম্পের ঘোষণায় কী বলা হয়েছে

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালী “স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন” এবং এটি শুধু চীনের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের স্বার্থে করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার আশা করছেন। 1

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও আশপাশের জলসীমায় নৌ অবরোধ জোরদার করেছিল। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ছয়টি তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। 2

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের দাম, শিপিং খরচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকলে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান—জ্বালানি ব্যয়ে বড় চাপের মুখে পড়তে পারে। 3

চীন-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে নতুন বার্তা

ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনকে অনেকেই একটি কূটনৈতিক ইউ-টার্ন হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে সমালোচনা করেছিল। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে অন্তত সীমিত পর্যায়ে সমন্বয় তৈরি হয়েছে। 4

আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য, শুল্ক এবং কৌশলগত সম্পদ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ ইস্যু বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 5

বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করে

বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ওপর বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তেল ও এলএনজি আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে, যা পরিবহন, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

যদিও ট্রাম্প প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন, বাস্তবে এটি কত দ্রুত কার্যকর হবে এবং ইরান কী প্রতিক্রিয়া জানাবে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। 6

Source: Based on reporting from Reuters, WSJ, Anadolu Agency and international wire reports.

```7
Next News Previous News