ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, সহযোগী অধ্যাপক গ্রেফতার

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেফতার

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রোববার সকালে বাড্ডার একটি বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মামলা ও গ্রেফতার

ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা নিহতের এক সহপাঠীকে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পেছনের তথ্য অনুসন্ধান

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের কথাও জানা গেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে শিক্ষকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

এক শোকবার্তায় বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনা পুরো বিভাগের জন্য গভীর বেদনার এবং এর যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: শিক্ষাঙ্গনে মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদার, অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Source: Based on reporting from যুগান্তর

Next News Previous News