প্রস্তুতি শেষে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সংসদে মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই ধাপে ধাপে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উঠে আসে, যেখানে বিভিন্ন সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনের সময়সূচি, প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে অনেক স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত প্রতিনিধির বাইরে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
ধাপে ধাপে নির্বাচন, সময় লাগতে পারে এক বছর
মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছরের সময় লাগে।
তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, কেন্দ্র নির্ধারণ ও সংস্কার, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। এছাড়া ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা ও আবহাওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়। তফসিল ঘোষণার আগে অন্তত ৪৫ দিনের প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলা—ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর—নিয়ে একটি পৃথক ফরিদপুর বিভাগ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে।
ইভিএম প্রকল্পে অনিশ্চয়তা ও তদন্ত
নির্বাচনী প্রযুক্তি হিসেবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা ২০১৮ থেকে ২০২৪ সময়কালে সম্পন্ন হয়।
তবে প্রকল্পটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি এবং অডিট অধিদপ্তর এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বর্তমানে এসব যন্ত্র বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সংরক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে সেবা প্রদান ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়—এমন মত বিশেষজ্ঞদের। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
সামনের পথ
সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং চলমান অন্যান্য কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
তবে দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
