এনসিপির মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাতিল বহাল
সংরক্ষিত নারী আসনে মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল বহাল, আদালতে যাওয়ার ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে জামায়াত-সমর্থিত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।
সোমবার রাজধানীর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত জানায়। কমিশন জানিয়েছে, প্রার্থিতা পুনর্বহালের মতো যথাযথ আইনি ভিত্তি তারা খুঁজে পায়নি।
আইনি জটিলতার কারণ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এই শর্ত পূরণ হয়নি বলেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন এবং সম্প্রতি চাকরি ছেড়েছেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ না হওয়ায় তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
আপিল শুনানির ফলাফল
নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে কমিশন একমত হয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, উপস্থাপিত তথ্য ও আইনি বিধান পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মনিরা শারমিন। তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে এ ধরনের আইনি লড়াই নতুন নয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এ ধরনের মনোনয়ন সংক্রান্ত বিরোধ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার একটি অংশ হলেও তা রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে এমন বিতর্ক কমে আসবে এবং জনআস্থা বৃদ্ধি পাবে।
উপসংহার
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে মনিরা শারমিন আপাতত নির্বাচনের বাইরে থাকছেন। তবে বিষয়টি এখন আদালতের ওপর নির্ভর করছে, যেখানে পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হতে পারে।
Source: Based on reporting from যুগান্তর
