এত বজ্রপাত হয় জানলে সুনামগঞ্জে বিয়েই করতাম না

সুনামগঞ্জে বজ্রপাত এবং এর কারণে প্রাণহানির বিষয়টি জাতীয় সংসদে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। হাওর অঞ্চলে বজ্রপাত থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠার পাশাপাশি আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একটি রসিক মন্তব্য করে সংসদে সাময়িক হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

সোমবার সংসদের অধিবেশনে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসা এবং মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ২০১৭ সালে এই অঞ্চলকে বজ্রপাতের একটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি থাকে, যা কৃষিকাজের মৌসুমের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়েও বজ্রপাতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

সরকারের পদক্ষেপের কথা মন্ত্রীর

নোটিশের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং বজ্রপাত একটি বড় প্রাকৃতিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি জানান, হাওর অঞ্চলসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, বজ্রনিরোধক দণ্ড বসানো এবং সচেতনতা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

স্পিকারের রসিক মন্তব্য

আলোচনার এক পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হালকা রসিকতা করে বলেন, “এত বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জে, আগে জানলে সেখানে বিয়েই করতাম না।” তার এই মন্তব্যে সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।

যদিও মন্তব্যটি রসিকতা হিসেবে দেওয়া হয়, তবুও এর মাধ্যমে বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব কিছুটা ভিন্নভাবে উঠে আসে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও হাওর অঞ্চলে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে বলেও ধারণা করা হয়।

এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ আশ্রয় ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

উপসংহার

সংসদে বজ্রপাত ইস্যুতে আলোচনা এবং স্পিকারের রসিকতা—দুটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেও মূল বার্তা স্পষ্ট: হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News