ফ্যাসিবাদ সংক্রামক রোগ, যা বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রতিয়মান
কেরানিগঞ্জে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা, ‘জনগণের অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে’
ঢাকার কেরানিগঞ্জে এক দায়িত্বশীল সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক রোগের মতো, যা বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতসহ ১১ দলের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 1
নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ঘোষণা
সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চলবে। তবে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে তার “ইস্পাতকঠিন জবাব” দেওয়া হবে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, সাম্প্রতিক গণআন্দোলন ও গণভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিরোধী জোট আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। গত কয়েকদিন ধরে ১১ দলীয় জোট রাজধানীতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 2
জ্বালানি সংকট ও শিক্ষা নিয়ে সমালোচনা
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে। অথচ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরে।
এছাড়া স্কুল বন্ধ রেখে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্তকেও তিনি “নির্বুদ্ধিতার পরিচয়” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও একাডেমিক ক্ষতি বাড়তে পারে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও জনমত
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সামনে রেখে বিরোধী দলগুলোর ভাষ্য ও কর্মসূচি রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। কেরানিগঞ্জের এই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশলেরও ইঙ্গিত বহন করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। তাই সামনে আরও কর্মসূচি, সমাবেশ এবং জনমত গঠনের প্রচেষ্টা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
