চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
লামায় চাঁদা দাবির জেরে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা অভিযুক্ত
লামা বান্দরবান চাঁদাবাজি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাবার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আহত ব্যবসায়ী বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, যেখানে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিস্তারিত
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক স্থানীয় রাবার ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বাবুলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার ওই এলাকায় রাবার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি প্রবাসে থাকা ভাইদের অনুপস্থিতিতে দেশে ফিরে ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন ফারুক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রথমদিকে চাপের মুখে কিছু অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে ফারুকের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলার সময় তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মাহফুজ আলম মাসুম, যিনি আজিজনগর সাংগঠনিক থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া কোরবান আলী ওরফে রাজা মিয়া, মনির হোসেন মজলু, মো. লিটন এবং রফিকুল ইসলাম নামের আরও কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে এ ধরনের সহিংস ঘটনার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পুলিশের অবস্থান
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানিয়েছেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রভাব
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা প্রায়ই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্যবসার পরিবেশ আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তই পারে এমন পরিস্থিতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সব মিলিয়ে, লামার এ ঘটনাটি শুধু একটি হামলার অভিযোগ নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসা পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
Source: Based on reporting from Jugantor
