ফের বন্যার কবলে ফেনী, প্লাবিত পাঁচ উপজেলা

ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের ঢলে আবারও বন্যার কবলে পড়েছে ফেনীর পাঁচটি উপজেলা। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২১টি স্থান ভেঙে প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম, পানিবন্দি লাখো মানুষ।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় প্রথমে পানি ঢুকতে শুরু করে। বর্তমানে ওই এলাকাগুলোর পানি কমলেও নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে ছাগলনাইয়া, ফেনী সদর এবং দাগনভূঞা উপজেলার কিছু কিছু এলাকা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, এখন পর্যন্ত ১০৯টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং ৮২টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের ভাষায়, “প্রায় এক সপ্তাহ পর আজ সূর্যের দেখা মিলেছে। বাড়িতে এখনো হাঁটুসমান পানি। আশা করছি বৃষ্টি বন্ধ থাকলে দ্রুত পানি নামবে।” তিনি জানান, এখনো বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে, ফলে এলাকায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

অন্যদিকে পশ্চিম অলকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাসুম বলেন, “পানির তোড়ে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা কাজের জন্যই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কখনো কখনো নিজের ভাগ্যকেই দোষ দেই।”

মোটবীর ইজ্জতপুরের রাশেদা আক্তার জানান, “বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। প্রশাসনের লোকজন খাবার দিয়ে গেছে।”

ফেনী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, টানা চার দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে আবহাওয়া কিছুটা উন্নতির দিকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন মজুমদার জানিয়েছেন, “পরশুরাম ও ফুলগাজী অংশে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ছাগলনাইয়া ও সদর এলাকায় পানির উচ্চতা বাড়ছে। এখনো ভাঙা স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। পানি কমার পর বাঁধ মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, “খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।”

স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধের ২১টি অংশ ভেঙে যায়, যার ফলেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি।

প্রশ্ন রইলো...

প্রতিবছর বর্ষা এলেই ফেনীতে বন্যা—কেন এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি? বাঁধের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কি আদৌ কার্যকরভাবে হচ্ছে? না কি প্রতিবছর দুর্ভোগই নিয়তি হয়ে থাকছে সাধারণ মানুষের জন্য?

Next News Previous News