জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা: শিক্ষক-ছাত্রদের উপর হামলায় উত্তাল ক্যাম্পাস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি! ছাত্র রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার সরাসরি হামলায় রূপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচে দুই শিক্ষকসহ বাগছাসের তিন নেতার উপর হামলা চালিয়েছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদের উপর প্রথমে ‘ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততা’র অভিযোগ এনে তাকে আটক করে ছাত্রদলের নেতারা। এরপরই শুরু হয় মারধর।
রফিককে বাঁচাতে এগিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা ড. এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম। কিন্তু তাদেরও রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তাদের উপরও চলে গালাগাল ও শারীরিক হামলা। একইসঙ্গে বাগছাস জবি শাখার সভাপতি ফয়সাল মুরাদ, মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস হাসান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুকের উপরও হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বাগছাস আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “ফারুক একজন জুলাই আন্দোলনের কর্মী। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মারধর করা অনুচিত ছিল। কিন্তু বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তারা থামেনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি নিজেও ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম। আজ আমাকে পর্যন্ত ছাত্রলীগ বলে কিলঘুষি মারা হয়েছে। এরা সবাই অছাত্র। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে।”
হামলার শিকার ফেরদৌস শেখ বলেন, “আমাদের এক সহযোদ্ধার উপর হামলা হয় প্রথমে। পরে শিক্ষকরা বাঁচাতে এলে তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে এর বিচার চাই।”
অন্যদিকে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ঢুকেছে—এই খবরে আমরা ব্যবস্থা নিতে যাই। কিন্তু উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মব তৈরি করে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “ঘটনা শুনে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।” তবে শিক্ষক রিফাত হাসান এই বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন ছাত্র ও শিক্ষক মহল থেকে। ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির নামে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী? ছাত্র রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে নাকি এটাও বড় কোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন? আপনার মতামত কী?
