কাশ্মিরে হামলার পর ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

News Article

ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের পেহেলগামে সম্প্রতি সংঘটিত এক প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক জরুরি টেলিফোন বৈঠক করেছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ এবং নিয়ন্ত্রণ রেখায় সামরিক তৎপরতার সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।”

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর দপ্তর থেকে জানানো হয়, “যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার পক্ষপাতী।”

কাশ্মিরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত সাতজন ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ভারত সরকার সরাসরি পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ‘জैশ-ই-মোহাম্মদ’-এর ওপর এই হামলার দায় চাপায়। পাকিস্তান এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেজর (অব.) সালেহ জাহান বলেন, “এই ধরণের হামলা উপমহাদেশে উত্তেজনা বাড়ায় এবং যে কোনো সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা এই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজন।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না এলেও, অনানুষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে যে দিল্লি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় হয়েছে।

কাশ্মির নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকে কাশ্মির দুই দেশের মধ্যে একটি অমীমাংসিত অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে। এ নিয়ে তিনটি যুদ্ধও হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং সীমান্ত উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষত ২০১৯ সালে ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর।

দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। পেহেলগামের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এই যোগাযোগ হয়তো সংকট নিরসনে একটি সম্ভাব্য পথ দেখাতে পারে, তবে বাস্তবিক অগ্রগতি নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

Next News Previous News