বাংলাদেশিদের জন্য সীমিত ভিজিট ভিসা চালু করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত পরিসরে ভিজিট ভিসা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ঢাকায় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আল হুমুদি ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর মধ্যে এক সৌজন্য সাক্ষাতের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘটনার বিস্তারিত
ইউএই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের নতুন ভিজিট ভিসা ইস্যু স্থগিত রেখেছিল, যা বিশেষ করে পারিবারিক ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল। নতুন ঘোষণার আওতায় এখন নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ভিজিট ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
কতদিন বা কতজনকে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তা এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য মন্তব্য
“আমিরাত সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।” — লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত
“বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে ভিসা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছি এবং ভবিষ্যতে তা আরও প্রসারিত হবে।” — আবদুল্লাহ আলি আল হুমুদি, রাষ্ট্রদূত, সংযুক্ত আরব আমিরাত
পটভূমি
করোনা মহামারির পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিজিট ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করে, যার প্রভাবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ কার্যত বন্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ভ্রমণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী আমিরাতে কর্মরত থাকায়, উভয় দেশের মধ্যে অভিবাসন ও কূটনৈতিক ইস্যুগুলো সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমিরাত এখন সীমিত পরিসরে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
উপসংহার
সীমিত ভিজিট ভিসা চালুর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-আমিরাত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে উন্মুক্ত ভিসা নীতির পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে কী ধরনের আবেদনকারীরা এই সুবিধা পাবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
