চীন সন্ত্রাসবাদে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাল, বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিল ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনা

ভারত-পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে চীন সবসময় সত্যের পক্ষে থাকবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় চীন পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন,

“সন্ত্রাসবাদ আন্তর্জাতিক সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি। যেকোনো ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস পায় এবং সত্য উন্মোচিত হয়।”

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও পরস্পরের প্রতি সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগের পটভূমিতে এই মন্তব্য আসে। রাষ্ট্রদূত ওয়েন আরও বলেন,

“চীন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ভিত্তিতে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশ আমাদের আস্থাভাজন বন্ধু এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তার ভূমিকাকে আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখি।”

তিনি আরও বলেন, “চীন সবসময় সংকটে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংলাপের ওপর জোর দেয়। এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বাংলাদেশের একজন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, অনুপম সরকার বলেন,

“চীনের এ ধরনের অবস্থান আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই তার নিজস্ব স্বার্থের দিকটিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

সম্প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে একাধিক গুলিবিনিময় ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। উভয় পক্ষই একে অপরকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে যখন দুটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়।

চীন, যাদের পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কাছে টানার চেষ্টা করেছে। ফলে চীন এখন এই দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে আগ্রহী বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বাংলাদেশকে কূটনৈতিকভাবে আশ্বস্ত করেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীন তার ‘দায়িত্বশীল শক্তি’ হিসেবে ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ প্রেক্ষাপটে, দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলো কতটা সংলাপ ও সহযোগিতার পথে এগোতে পারে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Next News Previous News