আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এনসিপির
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের দলের পক্ষ থেকে যমুনা নদীর সামনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি এ ঘোষণাটি বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালে এক গণমিছিলে প্রদান করেন, যেখানে এনসিপির নেতারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল শহরের যমুনা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “যতদিন না পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে, ততদিন আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরব।”
তিনি আরো বলেন, “এনসিপি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সজাগ থাকবে এবং কোনো ধরনের আপোষের মধ্যে যাবে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং স্থানীয় কর্মীরা, যারা সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
“এনসিপি কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের শাসনকে মেনে নেবে না। আমরা জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, কিন্তু কঠোর হবে। যতদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”
— হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), এনসিপি
এছাড়া, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, নূরুল ইসলাম বলেন,
“দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করলে জনগণ শাসক দল থেকে মুক্তি পাবে না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি, যা গত এক দশকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা ও আন্দোলন গড়ে ওঠার পর, এনসিপি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। দলটি মূলত গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছে।
নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শাসনব্যবস্থা ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে, এবং এনসিপি সরকারের বিরুদ্ধে এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে।
“আমরা কোনোভাবেই দলীয় প্রতিশোধের পক্ষে নই। কিন্তু ন্যায়বিচার ছাড়া নতুন শুরুর কথা বলা এক ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা। দেশের মানুষ জবাব চায়, আর আমরা সেই জনগণের প্রতিনিধি।”
— হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), এনসিপি
জাতীয় ঐকমত্যের প্রক্রিয়া সামনে এগোতে থাকলেও এনসিপির এই অবস্থান কর্মসূচি একটি নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। একদিকে নতুন সরকার স্থিতিশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজছে, অন্যদিকে একটি অংশ জবাবদিহিতা ও বিচার ছাড়া সামনে না এগোনোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এনসিপির এই আন্দোলনের প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হয়। এনসিপি তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে, এটি এক নতুন রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।
