গাবতলী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ: ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন

By [আপনার নাম], সিনিয়র সংবাদদাতা

গাবতলী পশুর হাটের ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষভাবে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

মূল তথ্য

রোববার ডিএনসিসির জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, গাবতলী পশুর হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় 'প্রক্রিয়াগত ত্রুটি', স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল ইসলাম (সভাপতি), অঞ্চল-৫ এর উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল হাসান এবং আইন কর্মকর্তা রুবিনা ইয়াসমিন।

প্রশাসকের বক্তব্য

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ সাংবাদিকদের বলেন, “গাবতলী হাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে গণমাধ্যম ও অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে যে প্রশ্ন ও অভিযোগ এসেছে, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের সম্পদ নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পটভূমি

গাবতলী পশুর হাট ঢাকা মহানগরের বৃহত্তম কোরবানির হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর ঈদুল আজহার আগে হাটটি থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে হাট ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, দরপত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে আসছে।

২০২৩ সালেও একই ধরনের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, কিন্তু কার্যকর তদন্তের অভাবে অনেক অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া

ডিএনসিসির সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছরই গাবতলী হাট নিয়ে অনিয়মের কথা শোনা যায়। এবার যদি সত্যিকারের তদন্ত হয়, তাহলে প্রশাসনের প্রতি জনআস্থা কিছুটা হলেও ফিরবে।”

ঢাকা বাণিজ্য ফোরামের নির্বাহী সদস্য শামীম আহমেদ বলেন, “এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব কেন্দ্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। আশা করি কমিটি নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং দৃষ্টান্তমূলক সুপারিশ দেবে।”

উপসংহার

গাবতলী হাটকে ঘিরে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিপুল আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যা নগর অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই হাট পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যদি নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়, তবে তা রাজধানীর অন্যান্য নগর সেবার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দৃষ্টি তদন্ত কমিটির কাজের ওপর।

Next News Previous News