কাশ্মীর হামলার ছয় সন্দেহভাজনের খোঁজে কলম্বো বিমানবন্দরে শ্রীলঙ্কা পুলিশের তল্লাশি অভিযান

সংবাদ প্রতিবেদন

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলায় জড়িত ছয় সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টায় শনিবার কলম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যাতে জানানো হয় যে চেন্নাই থেকে ছয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করেছে।

মূল তথ্যসমূহ:
  • তল্লাশি অভিযান শুরু হয় শনিবার দুপুরে, শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
  • সন্দেহভাজনরা পেহেলগামে সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা বহরে হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
  • ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ছয়জনের একটি দল চেন্নাই থেকে ফ্লাইটে কলম্বো পৌঁছেছে।
  • বিমানবন্দরের সকল যাত্রী, লাগেজ ও প্রবেশকারী তথ্য পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।
  • তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ।
পটভূমি:

কাশ্মীরের পেহেলগামে সম্প্রতি এক সন্ত্রাসী হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য আহত হন। হামলার পর পরই হামলাকারীদের ভারতের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে আন্তর্জাতিক নজরদারি জোরদার করা হয়।

শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা চুক্তি থাকায়, উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বিত তৎপরতা গ্রহণ করে।

উদ্ধৃতি:
“আমরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের কোনো নিশ্চিত উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি, তবে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।” — নিহাল থালদুয়া, মুখপাত্র, শ্রীলঙ্কা পুলিশ
“আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ছয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি কাশ্মীর হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং তাদের শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া গেছে। সেজন্যই তাত্ক্ষণিকভাবে তথ্য ভাগাভাগি করা হয়েছে।” — সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা, ভারত
সমাপ্তি:

কাশ্মীর থেকে ছড়িয়ে পড়া জঙ্গি কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোতে এমন সতর্কতা ও তল্লাশি অভিযান এই আশঙ্কাকে আরও দৃঢ় করে তোলে যে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যাতে সন্ত্রাসবাদ রোধে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

Next News Previous News