২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা: আসামিদের খালাস রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি ৬ মে পর্যন্ত মুলতবি

By [আপনার নাম], সিনিয়র সংবাদদাতা

২০০৪ সালের আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ সব আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি পিছিয়ে আগামী মঙ্গলবার, ৬ মে, নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

শনিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের প্রস্তুতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন শুনানির দিন ধার্য করেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মূল ঘটনা ও আপিলের পটভূমি

গত ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ জনের সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যেটির শুনানি আজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে উভয় পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি ৬ মে পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, “এই মামলাটি জাতীয় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আদালতের সামনে যুক্তি উপস্থাপন করব।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা হাইকোর্টের রায়কে আইনসিদ্ধ ও ন্যায়সঙ্গত মনে করি। আপিল বিভাগের শুনানিতে তা আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছি।”

২১ আগস্ট হামলার প্রেক্ষাপট

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় মামলাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২০২৪ সালে হাইকোর্ট অধিকাংশ আসামির শাস্তি বাতিল করে খালাস দেয়, যা রাজনৈতিক ও জনপরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ এই খালাসের রায়কে ‘ন্যায়বিচারের পরাজয়’ বলে উল্লেখ করেছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “২১ আগস্টের হামলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কলঙ্কজনক অধ্যায়। সেই হামলার পরিকল্পনাকারীদের দায়মুক্তি ভবিষ্যতে বিপজ্জনক বার্তা দিতে পারে।”

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, হাইকোর্টের রায় সত্য ও আইনের বিজয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা বরাবরই বলে আসছি, এই মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হাইকোর্ট সেটাই প্রমাণ করেছে।”

উপসংহার

২১ আগস্ট মামলাটি শুধু একটি ফৌজদারি বিচার নয়, বরং তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর ক্ষতচিহ্ন। আপিল বিভাগের সামনে থাকা এই শুনানি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও বিচারিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী ৬ মে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানির মধ্য দিয়ে মামলার পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Next News Previous News