এবার মোদির নিজের দেশেই ‘পাকিস্তান! পাকিস্তান স্লোগান!’
মোদির নিজের দেশেই 'পাকিস্তান! পাকিস্তান!' স্লোগান — রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে
নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ চলাকালে ‘পাকিস্তান! পাকিস্তান!’ স্লোগান শোনা গেছে। ঘটনাটি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে আহমেদাবাদের একটি জনসভায়, যেখানে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে ভাষণ দিচ্ছিলেন দলীয় নেতারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশ চলাকালে কিছু অংশগ্রহণকারী আচমকা ‘পাকিস্তান! পাকিস্তান!’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। দ্রুত নিরাপত্তা কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সমাবেশে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শী রাজীব দেশাই বলেন, “আমি নিজ চোখে দেখেছি, কিছু যুবক আচমকা উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাদের সরিয়ে নেয়, তবে ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে গুজরাট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজেপির মুখপাত্র গিরিরাজ সিং এই ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ভোটের সময় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিরোধীরা এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। জনগণ এর সঠিক জবাব দেবে।”
অন্যদিকে, কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গাঁধী এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারকে আত্মসমালোচনা করতে হবে, বিরোধীদের দোষারোপ করে দায় এড়ানো যাবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বিভাজনমূলক ও উস্কানিমূলক ইস্যুগুলোর ভূমিকা বেড়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সামান্য উত্তপ্ত ঘটনাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি ও কংগ্রেস উভয় দলই প্রচার-প্রচারণা জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে গুজরাটের মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে এ ধরনের ঘটনা দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
শেষ কথা: গুজরাটের এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ভারতের রাজনীতিতে আরেকটি সংবেদনশীল অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এখন জরুরি।
